২৯তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) হিসেবে গ্র্যাজুয়েট হতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) হিসেবে গ্র্যাজুয়েট হতে যাচ্ছে। গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যে বৈচিত্র্য আনা ও উৎপাদন খরচ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন।

রাজধানীর পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে গতকাল ২৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘‌২০২৬ সালে এলডিসি গ্র্যাজুয়েট হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এলডিসি গ্র্যাজুয়েট হিসেবে আমাদের সেভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। এর জন্য ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন উত্তরণকালে অনেক চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। দুর্যোগ সৃষ্টি হবে, বেকারত্ব বেড়ে যাবে। এজন্য ব্যক্তি খাতের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে ব্যবসায়ীদের। সব বিষয় সরকার একা পারবে না, প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।’

এরই মধ্যে সরকার ১৮টি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো চালু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিজেদের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে ব্যবসায়ীদের। আমি ব্যবসায়ীদের বলব নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করুন, পণ্যের বৈচিত্র্য তৈরি করুন এবং পণ্যের খরচ কমানোর ব্যাপারে সচেতন হোন।’

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে, অর্থনৈতিক ভারসাম্য এবং রফতানি বৃদ্ধিতে বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়। আমরা এটিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বলি। কিন্তু এখানে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ কম। যারা আসেন তারা মনিহারি পণ্য নিয়ে আসেন। এবার কয়েকটি বিদেশী প্রতিষ্ঠান এসেছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিদেশী অংশগ্রহণকারী কম হওয়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাসব্যাপী একটি মেলায় বিদেশী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ সহজ নয়। তারা পাঁচ-ছয়দিনের প্রদর্শনীতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে থাকে। তারপরও আমরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় আন্তর্জাতিক সংযোগ বাড়াতে চাই।’ এ আসরের অভিজ্ঞতা নিয়ে ৩০তম বাণিজ্য মেলা দর্শনার্থীদের জন্য ভালো অভিজ্ঞতা দেবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

সমাপনী অনুষ্ঠানে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহমান ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান।

এবারে মেলায় মোট ৩৪৩টি দেশী-বিদেশী প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। যার মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত বছরের মেলায় ৩০৪টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছিল। যার মধ্যে পাঁচটি দেশের নয়টি বিদেশী প্রতিষ্ঠান ছিল।

মেলায় মোট ৩৬১ স্টল ও প্যাভিলিয়ন ছিল। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের সম্মানার্থে তৈরি করা হয় জুলাই চত্বর ও ছত্রিশ চত্বর।

এবারের মেলায় বস্ত্র, ফার্নিচার, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, মেশিনারিজ, কসমেটিকস, গৃহসজ্জা, খেলনা, স্টেশনারিজ, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, হস্তশিল্পসহ নানাবিধ পণ্য প্রদর্শিত হয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৫১টি সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, আকিজ প্লাস্টিকস লিমিটেড, আরএফএল প্লাস্টিকস লিমিটেডসহ ২২টি প্রতিষ্ঠান। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে সেভয় আইসক্রিম ফ্যাক্টরি লিমিটেড, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, কেওয়াই টু টোন লিমিটেডসহ ১৬টি প্রতিষ্ঠান।

তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে দিল্লি অ্যালুমিনিয়াম ফ্যাক্টরি, আবুল খায়ের মিল্ক প্রডাক্টস লিমিটেড, এসকেবি স্টেইনলেস স্টিল লিমিটেডসহ ১৩টি প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া বাণিজ্য মেলায় সহযোগিতার জন্য রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।

এর আগে গত ১ জানুয়ারি পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ২৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আরও